বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

হাজার পাপের নষ্ট ফসল

হাজার পাপের নষ্ট ফসল


আল্লামা মুফতী নূর হোসাইন নূরানি দা.বা.

একজন পুরুষ যদি নিজেকে নবি দাবি করে হালুয়া-রুটির বন্দোবস্ত করতে পারে, তাহলে আমি কেন পারব না। মহিলা হয়েছি বলে আমার কি কোনো স্বাদ-আহ্লাদ থাকতে পারে না! সুতরাং, আজ থেকে আমিও নবি...
মহিলার নাম সাজ্জাহ। তাকে জিজ্ঞেস করাহল, তুমি যে নিজেকে নবি দাবি করছ, দলিল কী? সে বলল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আনা খাতামুন নাবিয়্যীন, লা নাবিয়্যা বা'দী। আমার পরে আর নতুন কোনো নবি আসবেন না'। কিন্তু, 'লা নাবিয়্যাতা বা'দী' তো আর বলেননি। তিনি তো আর বলেননি আমার পরে আর কোনো নবিনী আসবেন না। সুতরাং আমার চান্স আছে...
খবর পৌছালো সেই পুরুষ ভণ্ড মুসায়লামা কাজ্জাবের কাছে। মুসায়লামা হল এই সিরিয়ালের প্রথম পাগল। সে চিন্তায় পড়েগেল... একজন মহিলাও যদি দোকান খুলে বসে, তাহলে তো আমার কাস্টমার কমে যাবে। যে করেই হোক, একে দমাতে হবে।
সাজ্জাহকে আক্রমণ করার জন্য রওয়ানা করল মুসায়লামা। তাকে এক ঘরে আটকে রাখল তিনদিন। এই তিনদিন বাইরে চলল যুদ্ধ, ভেতরে লটর-পটর। ভণ্ডা ভণ্ডীর প্রেমে মজে ভণ্ডীর সাথে কম্প্রোমাইজ করে ফেলল।
-দুজনে মিলেমিশে খাই চলো।
-কীভাবে?
-চলো বিয়ে করে ফেলি।
.
সাজ্জাহর সাথে মুসায়লামার বিয়ে হল। বিয়ের সময় বেইমাননী যখন মোহরানার দাবি করল, তখন বেইমানটা বলল, তোমার বিয়ের মোহরানা বাবত এশা ও ফজরের নামাজ মাফ করে দেওয়া হল।
মুসায়লামা নবিজির জীবদ্বশাতেই নবুওয়াতের দাবি করে নবিজি কর্তৃক কাজ্জাব বা মিথ্যাবাদী খেতাব পেয়েছিল। হযরত আবুবকর সিদ্দিকের শাসনামলে ইয়ামামার যুদ্ধে তাকে হত্যা করাহয়। ভন্ডামির ইতিহাসে মুসায়লামাই ছিল প্রথম। এই রক্তের শেষ বংশধর মির্যা গোলাম কাদিয়ানী।
.
দুই
গত শতকের পাপের ফসল ছিল মির্যা গোলাম কাদিয়ানী। আল্লাহপাক খোলা টয়লেটের ময়লার মধ্যে তার মৃত্যু ঘটিয়ে দুনিয়াতেই তার ভণ্ডামির পরিচয় প্রকাশ করে দিয়েছেন। সুতরাং, মির্যার ভণ্ডামি নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নাই। তবে কথাহল, কাদিয়ানিদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কথাবার্তায় আরো স্মার্ট হতে হবে।
.
ভন্ডনবি।
মিথ্যা নবি।
আহমদিয়া।
.
তিনটাই ভুল কথা। মানে ভুল পরিভাষা। আমাদের পরিভাষাগুলোকে আরো দায়িত্বশীলতার রূপ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি মিছিলের স্লোগানগুলোকেও। 'একটা একটা কাদিয়ানী ধর/ধইরা ধইরা...' কে তৈরি করে দেয় এমন স্লোগান? এগুলো আমাদের স্লোগান হতে পারে না। এগুলোকে যে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মানুষের কোনো অভাব নাই; একথা ভুলে গেলে তো হবে না।
.
কোনো নবি কখনও ভণ্ড হতে পারেন না। কোনো ভণ্ড কখনও নবি হয় না। সুতরাং মির্যা গোলাম কাদিয়ানী ভণ্ডনবি ছিল না। সে ছিল একজন ভণ্ড। ভণ্ডকে শুধুই ভণ্ড বলতে হবে, ভণ্ডনবি না।
.
মির্যা গোলাম কাদিয়ানী মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার ছিল না; সে ছিল নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার। কথা দুটো শুনতে প্রায় একই রকম শোনালেও কথা কিন্তু এক না। মিথ্যা নবুওয়াত বলে কিছু নেই। নবুওয়াত কখনও মিথ্যা হয় না। নবুওয়াত মানেই শাশ্বত সত্য। কেউ নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করলে তাকে মিথ্যানবি বলতে হবে কেন? নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার বলা যায়।
আর অবশ্যই মির্যার অনুসারীরা আহমদিয়া নয়। আহমদ হল মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম। সুতরাং তারা যা, কাদিয়ানী, মির্যায়ী, তাদেরকে তাই ডাকা উচিত, আহমদিয়া নয়।
.
তিন
ইদানীং কাদিয়ানীরা বাংলাদেশে আবারও মাথাছাড়া দিয়ে উঠবার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের শান্ত জনপদকে অশান্ত করে তুলবার পায়তারা করছে তারা। মুসলমানরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠছে। সেটাই ইমানের দাবি।
দাবি একদম পরিস্কার। কাদিয়ানীরা কাদিয়ানী ধর্ম বা মির্যায়ী ধর্ম পালন করুক। সভা সমাবেশ করুক। পুঁজা-ইবাদত যা খুশি করুক। মুসলমানদের কোনো সমস্যা নাই। তবে মুসলমান নাম নিয়ে নবিজির নবুওয়াতের মর্যাদা নিয়ে ফাইজলামি করলে অবশ্যই আমাদের সমস্যা আছে। বিশ্ব মুসলিম এমন ফাইজলামি অতীতেও সহ্য করেনি, আগামীতেও করবে না।
----চলবে

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা উচিত : আল্লামা মাসঊদ


কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা উচিত : আল্লামা মাসঊদ


 কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার মধ্যেই বাংলাদেশের শান্তি নিহিত দাবি করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে কাদিয়ানী সম্প্রদায় অমুসলিম। এটা স্পষ্ট। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীরা একে অকপটে মানেন এবং স্বীকার করেন। বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা উচিত।
পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের অনুষ্ঠান বন্ধ করায় অভিনন্দন জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় আমরা এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। দেশের শান্তি বিনষ্ট হয় এমন অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে প্রশাসন বিরত থাকুক সেটাই আমরা চাই। ভবিষ্যতেও এ বিষয়টি আমলে রাখার আহ্বান জানাই।
দেশের মানুষের ঈমান ও আকিদা যাতে প্রশ্নের মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে কাদিয়ানীকে অমুসলিম ঘোষণার বিকল্প নেই উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, বিশে^র অনেক মুসলিম দেশেই কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। এখানকার মুসলমানগণ পরধর্মের প্রতিও আন্তরিক। মুসলমান কখনোই লাঠালাঠি ও দাঙ্গা হাঙ্গামায় বিশ^াসী নয়। ইসলাম সবসময় শাশ^ত সৌন্দর্যের আহ্বান জানায়। ইসলামের জন্য নতুন কোনো সংবিধানেরও দরকার নেই। নতুন কোনো কথা, নতুন কোনো স্লোগানও ইসলামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কুরআন আমাদের আসল সংবিধান। পৃথিবীতে আর কোনো নবী ও রাসূল আসবেন না- একথা স্পষ্ট কুরআনের ঘোষণা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা খাতামুন্নাবিয়্যিন বলে নবী ও রাসূল আগমনের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। নতুন করে কারও নবী ও রাসূল হওয়া সম্ভব নয়।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
মুসলিম হিসেবে কাদিয়ানীরা এ দেশে কোনো তৎপরতা জারি রাখতে পারে না উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, তারা ভিন্ন কোনো সম্প্রদায় হিসেবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে কিনা সেটা বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। তবে তারা যে অমুসলিম সে ঘোষণা যত দ্রুত দেওয়া হবে ততই সরকারের জন্য ভালো।
যারা কাদিয়ানী বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে তাদের উদ্দেশ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আন্দোলন অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুচারুরূপে হওয়া উচিত। আন্দোলনের ফসল যেনো কোনোভাবেই কাদিয়ানীদের ঘরে না ওঠে সেটাও ভাবা উচিত।
হক ও বাতিলের বিরুদ্ধে আলেম ও তাওহীদি জনতার ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হওয়া উচিত উল্লেখ করে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আলেমগণ হলেন এদেশের মুকুট। আলেমগণ মাঝে মাঝে জেগে ওঠে আন্দোলন করবেন না। সবসময় আলেমদেরকে হক ও বাতিলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আলেমগণ সজাগ ও সতর্ক থাকলেই বাতিল কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

মুফতি নুরানীর হুংকারে ক্ষেপে উঠন বাংলাদেশের কাদিয়ানী


মুফতি নুরানীর হুংকারে ক্ষেপে উঠন বাংলাদেশের কাদিয়ানী

পঞ্চগড়ের আহমদনগরে ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ নামধারী কাদিয়ানি অমুসলিমরা আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় ইজতেমা’ করার ঘোষণা দেয়। স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, ইজতেমা সফল করতে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারা। যাতে সাধারণ মুসলমানের বিভ্রান্ত হচ্ছে। এতে এলাকার মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় জনসাধারণ মুসলিম নামধারী অমুসলিম সম্প্রদায়ের কথিত ইজতেমাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলো গত দুই সপ্তাহ যাবত। বিশেষত গত শুক্রবার বাদ জুমা থেকে আনুষ্ঠনিক কর্মসূচি পালন করে আসছিলো তারা। এ সময় কয়েকবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও হয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। কিন্তু প্রশাসন ইতিবাচক সাড়া দিতে অস্বীকার করে। প্রশাসন বার বার বলে আসছে সীমিত পরিসরে হলেও কাদিয়ানি ইজতেমা হতে হবে। তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। বিপরীতে আন্দোলনকারীরা নিঃশর্তভাবে কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবি জানায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও প্রশসান আন্দোলনকারী সমাজের শ্রেণির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। অন্যদিকে বাইরে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রশাসন শর্ত সাপেক্ষে কাদিয়ানি ইজতেমা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত দেয়। এই খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের বাক-বিতণ্ডার শুরু হয়। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয় জনতা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উত্তেজিত জনতার একটি অংশ নদী পার হয়ে আহমদনগর যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় অনেকেই গুরুতর আহত হন।

অন্যদিকে পুলিশের সাথে সংঘাতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনকারীদের একটি অংশ নদী পার হয়ে আহমদনগরে চলে যায় এবং তারা কাদিয়ানি ইজতেমার প্যান্ডেলের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে অবস্থানরত কাদিয়ানিরা গরম পানি, লাঠি, খঞ্জরসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে মুসলমানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মুসলিম এই সময় আহত হয়। এ সময় প্যান্ডেলসহ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠলে প্রশাসন কাদিয়ানি ইজতেমা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। পঞ্চগড় পৌরসভা কেন্দ্রীয় মসজিদের মাইকে কাদিয়ানি ইজতেমা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কলরবের মানববন্ধন

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কলরবের মানববন্ধন


 : বুধবার রাজধানী জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম উত্তর গেইটে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে, কলরবের উপস্থাপক ইয়াসিন আরমান ও জায়েদ আজিজের সঞ্চালনায় জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরব মানববন্ধন করে।
এতে উপস্থিত ছিলেন কলরবের চেয়ারম্যান মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর, কলরবের প্রধান পরিচালক আবু সুফিয়ান, কলরবের নির্বাহী প্রধান আনোয়ার শাহ, সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম হাদী, মশিউর রহমান, কলরবের শাখা সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম, সংগীত পরিচালক ইসহাক আলমগির, মোহাম্মদ সেলিম সানি ও আহমাদ আবু জাফর, থিয়েটার পরিচালক ওমর ফারুক, সাব্বির আহমাদ, আব্দুল্লাহ আল রাশেদ ও ক্বারি ফয়সাল আহমাদ, বুরহান উদ্দিনন,  হাবিবুর রহমান, কিশোর পরিচালক রাশেদ রাহমান, মাহবুব আল বারী, মাসুম বিল্লাহ মারুফ, আব্দুল হাকিম সাদী, সাইফ আদনান, আহনাফ খালিদ, জাহিদ হাসান,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ বাংগালী, জাহিদ হাসান এমেলিসহ দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গ।
কলরব চেয়ারম্যান মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে, যতদিন পর্যন্ত অমুসলিম ঘোষণা না করা হবে। ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কলরব প্রধান আবু সুফিয়ান বলেন, গতকাল পঞ্চগড়ে অর্ধশতাধিক মুসুল্লি আহত ও খোবায়েব নামের এক ভাই শহীদ হওয়ার মাধ্যমে কাদিয়ানীদের ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
সরকারকে ধন্যবাদ জানান কলরব প্রধান আবু সুফিয়ান এবং অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানান তিনি। কলরব নির্বাহী প্রধান আনোয়ার শাহ বলেন, কাদিয়ানীরা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ক্যান্সার। এদেরকে দেশ থেকে বিতারিত করা প্রয়োজন যারা গোলাম মোহাম্মদ কাদিয়ানীকে নবী মানে। এছাড়া দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন

জীবন দিয়ে হলেও কাদিয়ানিদের ইজতেমা প্রতিহত করা হবে : আল্লামা মুফতী নূর হোসাইন নূরানি দা.বা.


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেনকাদিয়ানিরা যদি পঞ্চগড়ে সম্মেলন করার চেষ্টা করে তাহলে রাসুলপ্রেমিকরা প্রয়োজনে তাদের জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করবে। যারা আমাদের নবীকে শেষ নবী বলে স্বীকার করেনা তাদের সাথে কোন আপোষ করা যাবে না। আল্লামা মুফতীনূর হোসাইন নূরানি দা.বা
 এ কথা বলেন। মুফতী নূর হোসাইন নূরানি দা.বা  বলেনআমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী ও রাসুল। যদি কেউ নবী মুহাম্মদ (সা.)কে শেষ নবি মনে না করে সে কাফের। আর তাই গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কাফের। তার অনুসারিরাও কাফেরএ সময় বাংলার মাটিতে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এবং তার অনুসারিদের মতো ইসলামের দুশমনদের কাউকেই কোন অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবেনা বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন 

মুফতী নূর হোসাইন নূরানি দা.বা

মুফতি নুরানীর হুংকারে ক্ষেপে উঠন বাংলাদেশের কাদিয়ানী











আলহামদুলিল্লাহ উলামায়ে কেরামের খতমে নবুয়াত আন্দোলন সফল
, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিথ্যা নবীদাবীদার রাসুলের দুশমন কাদিয়ানী জিন্দিক কাফেরদের ইজতিমা স্থগিত করা হয়েছে।।হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানায়।পান্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আমাদের রাসুল কে শেষ নবী মানেনা, সে নিজেকে শেষ নবী দাবী করে।ঈসা আ জিবিত তা মানেনা ইন্তিকাল করেছে দাবী করে,ইমাম মাহদী ও মসীহ তারা নিজেরাই দাবী করে।আরো কত ভ্রান্ত আকিদা তাদের রয়েছে তার মৃত্যু টয়লেটে হয়েছে।এখন তাদের নেতা মির্যা নাসির।

কাদিয়ানী ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সংবাদ সম্মেলনের প্রেস রিলিজ

কাদিয়ানী ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সংবাদ সম্মেলনের প্রেস রিলিজ

, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পঞ্চগড় অভিমূখে লংমার্চসহ আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে
কথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিতব্য তাদের ৩ দিন ব্যাপী কথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগ ও মুহতারাম আমীরের আহ্বানে আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলন
স্থান: আমীরে হেফাজতের কার্যালয়, হাটহাজারী, চট্টগ্রামতারিখ: ১৩/০২/২০১৯ সময়: সকাল ১১ ঘটিকা
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা! নিজেদের শত ব্যস্ততা বিসর্জন দিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দেয়ায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিআপনারা সমাজের দর্পণ, দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণতাই দেশ ও জাতির স্বার্থে যে আত্মত্যাগ দিয়ে যাচ্ছেন, তার উত্তম প্রতিদান আল্লাহ তাআলা দান করুন, এটাই আমাদের কামনা
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! তথাকথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইহুদি-খ্রিস্টানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মুসলমানদের ঈমান হরণের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে দীর্ঘকাল যাবৎ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে; তাই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পরিচিতি, ধর্মীয় মতবাদ, তাদের সম্পর্কে ইসলামী শরীআর দৃষ্টিভঙ্গি ও মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের মাধ্যমে দেশ, জনগণ ও সরকারকে অবহিত করার লক্ষ্যে আপনাদের স্মরণ করেছি
প্রিয় উপস্থিতি! মূলত: কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার অন্তর্গত কাদিয়ান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেনএ কারণে তাকে কাদিয়ানী এবং অনুসারীদেরকে কাদিয়ানী সম্প্রদায় বলা হয়তবে তারা নিজেদের আহমদিয়া মুসলিম জামা নামে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং আহমদী বলতে ভালোবাসে
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার কারণসমূহ :
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধ হানাফী-শাফেয়ী বা হানাফী-আহলে হাদীস অথবা সুন্নী-বেদআতীদের মতবিরোধের মত নয়, বরং তাদের সাথে মুসলমানদের বিরোধ এমন কিছু মৌলিক আকীদা নিয়ে, যা বিশ্বাস করা-না করার উপর মানুষের ঈমান থাকা-না থাকা নির্ভর করেকাদিয়ানীরা ইসলামধর্মের অনেক মৌলিক আকীদা অস্বীকার করার কারণে নিঃসন্দেহে অমুসলিম ও কাফেরবরং যে ব্যক্তি (তাদের কুফরী বিষয়গুলো জানার পরও) তাদের কাফের মনে করবে না বা এতে সন্দেহ পোষণ করবে, সেও নিঃসন্দেহে কাফের 
নিম্নে তাদের কাফের হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হল:-
এক. আকীদায়ে খতমে নবুওয়াত অস্বীকার বা মুহাম্মাদ - কে শেষ নবী হিসেবে না মানা
পবিত্র কুরআন পাকের ৯৯টি আয়াত ও ২১০টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মতের ঐক্যমত যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নতুন নবীর আবির্ভাব হবে নাএটি ইসলামের অকাট্য মৌলিক আকীদা, যার অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের 
মুসলমানদের এমন একটি অকাট্য আকীদার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী ও রাসূল দাবি করেছে। (সূত্র: রূহানী খাযায়েন ১৮/২৩১ ও ২০৭; ২২/৫০৩; ২৩/৩২৮ ও ৩৩২) 
সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী মুসলমানদের সর্বসম্মত আকীদা মুতাবেক কাফেরআর যারা তাকে নবী বলে বিশ্বাস করে, তারা ইসলামের সর্বজনস্বীকৃত আকীদা মুতাবেক মুসলমান থাকতে পারে না; তারাও নিঃসন্দেহে অমুসলিম ও কাফের 
দুই. ঈসা আলাইহিস সালামের জীবিত থাকা ও অবতরণ অস্বীকার 
কেয়ামত সংঘটিত হওয়াটা যেমন সুনিশ্চিত, তদ্রƒপ কেয়ামতের বড় আলামত হিসেবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আসমান থেকে অবতরণ করার বিষয়টিও নিঃসন্দেহে একটি ইসলামী আকীদাকুরআন মাজীদের ১৩টি আয়াত ও ১১৬টি হাদীস দ্বারা ঈসা আলাইহিস সালামের জীবিত থাকা ও কেয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে আখেরি নবীর উম্মত হিসেবে অবতরণ করাটা প্রমাণিত এবং এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিতকিন্তু মির্যা কাদিয়ানী বলেছে, ঈসা মৃত্যু বরণ করেছেন; তিনি আর আসবেন না এবং আমিই হলাম ঈসা (রূহানী খাযায়েন ২১/৪০৬; ১৯/১১৩) ঈসা আ. মৃত্যু বরণ করেননি- এমন বলা বড় ধরণের শিরিক (প্রাগুক্ত ২২/২৬০) 
সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী ও তার অনুসারীরা ইসলামের এ অকাট্য আকীদা অস্বীকার করার কারণেও কাফের
তিন. নবীগণের অবমাননা ও তাঁদের সম্পর্কে অপবাদ 
মির্যা কাদিয়ানী কবিতা আবৃত্তি করেছে, প্রত্যেক রাসূল আমার জামার ভিতরে লুকানো (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪৭৮) সে আরো লিখেছে, মুহাম্মাদ এর জন্য চন্দ্রগ্রহণ হয়েছে আর আমার জন্য চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ উভয়টা হয়েছে (প্রাগুক্ত ১৮/১৯) অন্যত্র লিখেছে, ঈসা আ. মদ পান করতেন আরো বলেছে, তিনি অধিকাংশ সময় গালিগালাজে অভ্যস্ত ছিলেন এবং তাঁর মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল (প্রাগুক্ত ১৯/৭১; ১১/২৮৯) ইবনে মরিয়মের আলোচনা ছাড়্, গোলাম আহমদ তার চেয়ে উৎকৃষ্ট (প্রাগুক্ত ১৮/২৪০) 
মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম. এ. বলেছে, মির্যার আধ্যাত্মিকতা হুজুর -এর সময়ের আধ্যাত্মিকতা থেকে বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ় (নাউযুবিল্লাহ) (কালিমাতুল ফসল পৃ. ১৩১) 
এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান হল, নবীগণের অবমাননাকারী ও তাঁদের সম্পর্কে অপবাদকারী কাফেরএছাড়া তারা কাফের হওয়ার আরো অনেক কারণ রয়েছে
বৃটিশ সরকারের বিশ্বস্ত এজেন্ট ও তাদের দাঁড় করানো নবী
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেন, অতএব আমার ধর্ম- যা আমি বারবার প্রকাশ করছি যে, ইসলামের দুইটি অংশ১. আল্ল¬াহর আনুগত্য২. এই (বৃটিশ) সরকারের আনুগত্য (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০) 
হে মহামতি ভারত সম্রাজ্ঞী!...আপনার পবিত্র আকাক্সক্ষার ফলশ্রুতিতেই আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন (প্রাগুক্ত ১৫/১২০)
তিনি নিজের সম্পর্কে বৃটিশ সরকারের সাক্ষী তুলে ধরেন এভাবে- সে (মির্যা) পূর্ব থেকেই ইংরেজ সরকারের পূর্ণ হিতাকাঙ্খী ও সেবক অতঃপর বলেন, (তাই) নিজেদের এই রোপনকৃত চারার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধীরতা, সতর্কতা ও অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্ত নিবেন (মাজমূআয়ে ইশতিহারাত ৩/২১)
আমার জীবনের অধিকাংশ সময় এই ইংরেজ সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় কাটিয়েছিজিহাদের বিরোধিতা আর ইংরেজদের আনুগত্যের পক্ষে এত বই ও প্রচারপত্র লিখেছি যে, ৫০টি আলমারি ভরে যাবে (রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৫) 
আমি ইংরেজ সরকারের সেবায় ৫০ হাজার বই-পুস্তক ও প্রচারপত্র ছাপিয়ে বিতরণ করেছি (প্রাগুক্ত ১৫/১১৪)
এই (বৃটিশ) সরকারের অধীনে যে নিরাপত্তা পাচ্ছি, তা মক্কায় পাব না; মদীনায়ও না (প্রাগুক্ত ১৫/১৫৬) 
বৃটিশ সরকারের অবাধ্যতা ইসলাম, আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতার নামান্তর (প্রাগুক্ত ৬/৩৮১)
আমি দাবি করে বলছি, সকল মুসলমানের মধ্যে আমি ইংরেজ সরকারের প্রথম স্তরের হিতাকাঙ্খী (প্রাগুক্ত ১৫/৪৯১)
... বিশেষত আমার অনুসারীরা বৃটিশ সরকারের এমন নির্ভেজাল হিতাকাঙ্খী, যার নযীর মুসলমানদের মাঝে নেইএবং ওরা সরকারের এমন ওফাদার সৈন্য, যাদের শরীর ও অন্তর বৃটিশ সরকারের হিতাকাঙ্খীতায় পরিপূর্ণ (প্রাগুক্ত ১২/২৬৪)
বিভিন্ন দেশ, আদালত ও প্রতিষ্ঠানকর্তৃক অমুসলিম ঘোষণা 
১. সিরিয়া ১৯৫৭ সালে, মিসর ১৯৫৮ সালে এবং পাকিস্তানের ন্যাশনাল এসেম্বলী ১৯৭৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা করেছেএভাবে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, কাতারসহ বহু দেশ তাদের কাফের ঘোষণা করেছে 
২. ১৯৭৪ সালের ৬-১০ এপ্রিল সৌদি সরকারের পরিচালিত ইসলামী সংস্থা রাবেতায়ে আলমে ইসলামির তত্ত্বাবধানে মক্কা শরীফে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ইসলামী বিশ্বের ১৪৪টি সংগঠনের প্রতিনিধিগণের সর্বসম্মতিক্রমে কাদিয়ানীদের কাফের ও অমুসলিম ঘোষণা করা হয়
৩. মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংগঠন ও.আই.সি ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করেছে
৪. লাহোর হাইকোর্ট, সম্মিলিত শরয়ী আদালত এবং পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট বিভিন্ন সময়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করে 
৫. স্বাধীন ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের অতিরিক্ত বিচারপতি মাননীয় শ্রী নামভাট যোশী ১৯৬৯ সালের ২৮৮ নম্বর মামলার রায়ে বলেন, যে ব্যক্তি মির্যা গোলাম আহমদকে মান্য করে তাকে কখনো মুসলমান বলা যায় না 
যৌক্তিক বিচারে অমুসলিম ঘোষণা ও ইজতেমা বন্ধের দাবি
৯০ শতাংশ মুসলমানের এদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা যেমন বাংলাদেশের নাগরিক, তেমনি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরাও এ দেশের নাগরিকদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা যতটুকু নাগরিক অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে, অমুসলিম কাদিয়ানী সম্প্রদায়ও ততটুকু নাগরিক অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা নিয়ে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করুক- এতে আমাদের কোন আপত্তি নেইতবে তা তাদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয়ে হতে হবে, মুসলমান পরিচয়ে নয়আর তাদের কুফরী মতবাদকে ইসলামের নামে চালিয়ে দেয়া এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে একান্ত ইসলামী পরিভাষা যেমন কালিমা, নামায, রোযা, মসজিদ ও আযান-ইকামত ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দেয়া ইসলামের দৃষ্টিকোণে সম্পূর্ণ বেআইনী ও জঘন্যতম অপরাধ 
সুতরাং কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক আকীদা রক্ষার আন্দোলন তো অবশ্যই, ধর্মীয় অধিকারের বিষয়ও বটে
তাছাড়া কাদিয়ানীরা অমুসলিমরূপে ঘোষিত ও চিহ্নিত না হলে তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়যেমন:
১. তাদের রচিত ও প্রকাশিত বইপত্রকে মুসলমানদের লেখা বই-পুস্তকের মত মনে করে সাধারণ মানুষ পাঠ করে বিভ্রান্ত হয় এবং নিজেদের ঈমান হারিয়ে বসে
২. তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ মনে করে সেখানে নামায আদায় করে ধোঁকায় পড়ছে এবং অজান্তে তাদের ইবাদত বিফলে যাচ্ছে 
৩. কাদিয়ানী ধর্মমতের অনুসারী কোনো ব্যক্তি মুসলমানের ইমাম সেজে তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করতে পারে
৪. তারা মুসলমান পরিচয়ে নিজেদের মতবাদ-মতাদর্শ প্রচার করলে তাতে সাধারণ মুসলমান তাদের মুসলমানেরই একটি দল মনে করে তাদের মতবাদ গ্রহণ করে নিজেদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমান হারানো আশংকা রয়েছে
৫. তারা মুসলমান নামে পরিচিত হওয়ার কারণে অনেক মুসলমান তাদের সাথে মুসলমানের মত আচার-আচরণ ও চলাফেরা করেঅথচ তাদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হওয়া উচিত এমনই, যেমন কোনো অমুসলিমের সাথে হয়ে থাকে
৬. অনেক সাধারণ মুসলমান কাদিয়ানীদের মুসলমান মনে করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করার ফলে আজীবন ব্যভিচারের গুনাহে লিপ্ত থাকে
৭. কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বী গরীবকে যাকাত দিয়ে অনেক মুসলমানের যাকাতের ফরয বিধান বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান 
৮. যে কোনো কাফের তথা অমুসলিমের জন্য হারাম শরীফে প্রবেশ নিষেধঅথচ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরা মুসলিম পরিচয় দিয়ে হজ্ব ও চাকরির নামে সৌদি আরবে গিয়ে হারাম শরীফে প্রবেশ করে তার পবিত্রতা নষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছে
অতএব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের জোর দাবী হল:- 
১. বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেও অনতিবিলম্বে কথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে সংখ্যালগু অমুসলিম ঘোষণা করা হোক
২. তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষাসমূহ যেমন: কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও মসজিদ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হোক
৩. আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিতব্য তথাকথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণা করা হোক
তাদের তথাকথিত ইজতেমার আয়োজন ও কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পঞ্চগড় অভিমূখে লংমার্চসহ আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে
আহ্বানে
আল্লামা শাহ আহমদ শফী (হাফিযাহল্লাহ)
আমীর: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব হাফেয মাওলানা মুফতি ওসমান আল-হুমাম উখিয়াভী সিনিয়র মুহাদ্দিস জামেয়া ইসলামিয়া বাইতুল ক...