বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

কাদিয়ানী ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সংবাদ সম্মেলনের প্রেস রিলিজ

কাদিয়ানী ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সংবাদ সম্মেলনের প্রেস রিলিজ

, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পঞ্চগড় অভিমূখে লংমার্চসহ আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে
কথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিতব্য তাদের ৩ দিন ব্যাপী কথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগ ও মুহতারাম আমীরের আহ্বানে আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলন
স্থান: আমীরে হেফাজতের কার্যালয়, হাটহাজারী, চট্টগ্রামতারিখ: ১৩/০২/২০১৯ সময়: সকাল ১১ ঘটিকা
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা! নিজেদের শত ব্যস্ততা বিসর্জন দিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দেয়ায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিআপনারা সমাজের দর্পণ, দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণতাই দেশ ও জাতির স্বার্থে যে আত্মত্যাগ দিয়ে যাচ্ছেন, তার উত্তম প্রতিদান আল্লাহ তাআলা দান করুন, এটাই আমাদের কামনা
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! তথাকথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইহুদি-খ্রিস্টানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মুসলমানদের ঈমান হরণের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে দীর্ঘকাল যাবৎ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে; তাই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পরিচিতি, ধর্মীয় মতবাদ, তাদের সম্পর্কে ইসলামী শরীআর দৃষ্টিভঙ্গি ও মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের মাধ্যমে দেশ, জনগণ ও সরকারকে অবহিত করার লক্ষ্যে আপনাদের স্মরণ করেছি
প্রিয় উপস্থিতি! মূলত: কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার অন্তর্গত কাদিয়ান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেনএ কারণে তাকে কাদিয়ানী এবং অনুসারীদেরকে কাদিয়ানী সম্প্রদায় বলা হয়তবে তারা নিজেদের আহমদিয়া মুসলিম জামা নামে পরিচয় দিয়ে থাকে এবং আহমদী বলতে ভালোবাসে
কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার কারণসমূহ :
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিম সমাজের বিরোধ হানাফী-শাফেয়ী বা হানাফী-আহলে হাদীস অথবা সুন্নী-বেদআতীদের মতবিরোধের মত নয়, বরং তাদের সাথে মুসলমানদের বিরোধ এমন কিছু মৌলিক আকীদা নিয়ে, যা বিশ্বাস করা-না করার উপর মানুষের ঈমান থাকা-না থাকা নির্ভর করেকাদিয়ানীরা ইসলামধর্মের অনেক মৌলিক আকীদা অস্বীকার করার কারণে নিঃসন্দেহে অমুসলিম ও কাফেরবরং যে ব্যক্তি (তাদের কুফরী বিষয়গুলো জানার পরও) তাদের কাফের মনে করবে না বা এতে সন্দেহ পোষণ করবে, সেও নিঃসন্দেহে কাফের 
নিম্নে তাদের কাফের হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হল:-
এক. আকীদায়ে খতমে নবুওয়াত অস্বীকার বা মুহাম্মাদ - কে শেষ নবী হিসেবে না মানা
পবিত্র কুরআন পাকের ৯৯টি আয়াত ও ২১০টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মতের ঐক্যমত যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নতুন নবীর আবির্ভাব হবে নাএটি ইসলামের অকাট্য মৌলিক আকীদা, যার অস্বীকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের 
মুসলমানদের এমন একটি অকাট্য আকীদার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী ও রাসূল দাবি করেছে। (সূত্র: রূহানী খাযায়েন ১৮/২৩১ ও ২০৭; ২২/৫০৩; ২৩/৩২৮ ও ৩৩২) 
সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী মুসলমানদের সর্বসম্মত আকীদা মুতাবেক কাফেরআর যারা তাকে নবী বলে বিশ্বাস করে, তারা ইসলামের সর্বজনস্বীকৃত আকীদা মুতাবেক মুসলমান থাকতে পারে না; তারাও নিঃসন্দেহে অমুসলিম ও কাফের 
দুই. ঈসা আলাইহিস সালামের জীবিত থাকা ও অবতরণ অস্বীকার 
কেয়ামত সংঘটিত হওয়াটা যেমন সুনিশ্চিত, তদ্রƒপ কেয়ামতের বড় আলামত হিসেবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আসমান থেকে অবতরণ করার বিষয়টিও নিঃসন্দেহে একটি ইসলামী আকীদাকুরআন মাজীদের ১৩টি আয়াত ও ১১৬টি হাদীস দ্বারা ঈসা আলাইহিস সালামের জীবিত থাকা ও কেয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে আখেরি নবীর উম্মত হিসেবে অবতরণ করাটা প্রমাণিত এবং এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিতকিন্তু মির্যা কাদিয়ানী বলেছে, ঈসা মৃত্যু বরণ করেছেন; তিনি আর আসবেন না এবং আমিই হলাম ঈসা (রূহানী খাযায়েন ২১/৪০৬; ১৯/১১৩) ঈসা আ. মৃত্যু বরণ করেননি- এমন বলা বড় ধরণের শিরিক (প্রাগুক্ত ২২/২৬০) 
সুতরাং মির্যা কাদিয়ানী ও তার অনুসারীরা ইসলামের এ অকাট্য আকীদা অস্বীকার করার কারণেও কাফের
তিন. নবীগণের অবমাননা ও তাঁদের সম্পর্কে অপবাদ 
মির্যা কাদিয়ানী কবিতা আবৃত্তি করেছে, প্রত্যেক রাসূল আমার জামার ভিতরে লুকানো (রূহানী খাযায়েন ১৮/৪৭৮) সে আরো লিখেছে, মুহাম্মাদ এর জন্য চন্দ্রগ্রহণ হয়েছে আর আমার জন্য চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ উভয়টা হয়েছে (প্রাগুক্ত ১৮/১৯) অন্যত্র লিখেছে, ঈসা আ. মদ পান করতেন আরো বলেছে, তিনি অধিকাংশ সময় গালিগালাজে অভ্যস্ত ছিলেন এবং তাঁর মিথ্যা বলার অভ্যাস ছিল (প্রাগুক্ত ১৯/৭১; ১১/২৮৯) ইবনে মরিয়মের আলোচনা ছাড়্, গোলাম আহমদ তার চেয়ে উৎকৃষ্ট (প্রাগুক্ত ১৮/২৪০) 
মির্যাপুত্র বশির আহমদ এম. এ. বলেছে, মির্যার আধ্যাত্মিকতা হুজুর -এর সময়ের আধ্যাত্মিকতা থেকে বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ় (নাউযুবিল্লাহ) (কালিমাতুল ফসল পৃ. ১৩১) 
এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান হল, নবীগণের অবমাননাকারী ও তাঁদের সম্পর্কে অপবাদকারী কাফেরএছাড়া তারা কাফের হওয়ার আরো অনেক কারণ রয়েছে
বৃটিশ সরকারের বিশ্বস্ত এজেন্ট ও তাদের দাঁড় করানো নবী
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেন, অতএব আমার ধর্ম- যা আমি বারবার প্রকাশ করছি যে, ইসলামের দুইটি অংশ১. আল্ল¬াহর আনুগত্য২. এই (বৃটিশ) সরকারের আনুগত্য (রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০) 
হে মহামতি ভারত সম্রাজ্ঞী!...আপনার পবিত্র আকাক্সক্ষার ফলশ্রুতিতেই আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন (প্রাগুক্ত ১৫/১২০)
তিনি নিজের সম্পর্কে বৃটিশ সরকারের সাক্ষী তুলে ধরেন এভাবে- সে (মির্যা) পূর্ব থেকেই ইংরেজ সরকারের পূর্ণ হিতাকাঙ্খী ও সেবক অতঃপর বলেন, (তাই) নিজেদের এই রোপনকৃত চারার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধীরতা, সতর্কতা ও অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্ত নিবেন (মাজমূআয়ে ইশতিহারাত ৩/২১)
আমার জীবনের অধিকাংশ সময় এই ইংরেজ সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় কাটিয়েছিজিহাদের বিরোধিতা আর ইংরেজদের আনুগত্যের পক্ষে এত বই ও প্রচারপত্র লিখেছি যে, ৫০টি আলমারি ভরে যাবে (রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৫) 
আমি ইংরেজ সরকারের সেবায় ৫০ হাজার বই-পুস্তক ও প্রচারপত্র ছাপিয়ে বিতরণ করেছি (প্রাগুক্ত ১৫/১১৪)
এই (বৃটিশ) সরকারের অধীনে যে নিরাপত্তা পাচ্ছি, তা মক্কায় পাব না; মদীনায়ও না (প্রাগুক্ত ১৫/১৫৬) 
বৃটিশ সরকারের অবাধ্যতা ইসলাম, আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতার নামান্তর (প্রাগুক্ত ৬/৩৮১)
আমি দাবি করে বলছি, সকল মুসলমানের মধ্যে আমি ইংরেজ সরকারের প্রথম স্তরের হিতাকাঙ্খী (প্রাগুক্ত ১৫/৪৯১)
... বিশেষত আমার অনুসারীরা বৃটিশ সরকারের এমন নির্ভেজাল হিতাকাঙ্খী, যার নযীর মুসলমানদের মাঝে নেইএবং ওরা সরকারের এমন ওফাদার সৈন্য, যাদের শরীর ও অন্তর বৃটিশ সরকারের হিতাকাঙ্খীতায় পরিপূর্ণ (প্রাগুক্ত ১২/২৬৪)
বিভিন্ন দেশ, আদালত ও প্রতিষ্ঠানকর্তৃক অমুসলিম ঘোষণা 
১. সিরিয়া ১৯৫৭ সালে, মিসর ১৯৫৮ সালে এবং পাকিস্তানের ন্যাশনাল এসেম্বলী ১৯৭৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণা করেছেএভাবে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, কাতারসহ বহু দেশ তাদের কাফের ঘোষণা করেছে 
২. ১৯৭৪ সালের ৬-১০ এপ্রিল সৌদি সরকারের পরিচালিত ইসলামী সংস্থা রাবেতায়ে আলমে ইসলামির তত্ত্বাবধানে মক্কা শরীফে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ইসলামী বিশ্বের ১৪৪টি সংগঠনের প্রতিনিধিগণের সর্বসম্মতিক্রমে কাদিয়ানীদের কাফের ও অমুসলিম ঘোষণা করা হয়
৩. মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংগঠন ও.আই.সি ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করেছে
৪. লাহোর হাইকোর্ট, সম্মিলিত শরয়ী আদালত এবং পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট বিভিন্ন সময়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করে 
৫. স্বাধীন ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের অতিরিক্ত বিচারপতি মাননীয় শ্রী নামভাট যোশী ১৯৬৯ সালের ২৮৮ নম্বর মামলার রায়ে বলেন, যে ব্যক্তি মির্যা গোলাম আহমদকে মান্য করে তাকে কখনো মুসলমান বলা যায় না 
যৌক্তিক বিচারে অমুসলিম ঘোষণা ও ইজতেমা বন্ধের দাবি
৯০ শতাংশ মুসলমানের এদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা যেমন বাংলাদেশের নাগরিক, তেমনি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরাও এ দেশের নাগরিকদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা যতটুকু নাগরিক অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে, অমুসলিম কাদিয়ানী সম্প্রদায়ও ততটুকু নাগরিক অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা নিয়ে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করুক- এতে আমাদের কোন আপত্তি নেইতবে তা তাদের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয়ে হতে হবে, মুসলমান পরিচয়ে নয়আর তাদের কুফরী মতবাদকে ইসলামের নামে চালিয়ে দেয়া এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে একান্ত ইসলামী পরিভাষা যেমন কালিমা, নামায, রোযা, মসজিদ ও আযান-ইকামত ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দেয়া ইসলামের দৃষ্টিকোণে সম্পূর্ণ বেআইনী ও জঘন্যতম অপরাধ 
সুতরাং কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক আকীদা রক্ষার আন্দোলন তো অবশ্যই, ধর্মীয় অধিকারের বিষয়ও বটে
তাছাড়া কাদিয়ানীরা অমুসলিমরূপে ঘোষিত ও চিহ্নিত না হলে তাতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়যেমন:
১. তাদের রচিত ও প্রকাশিত বইপত্রকে মুসলমানদের লেখা বই-পুস্তকের মত মনে করে সাধারণ মানুষ পাঠ করে বিভ্রান্ত হয় এবং নিজেদের ঈমান হারিয়ে বসে
২. তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ মনে করে সেখানে নামায আদায় করে ধোঁকায় পড়ছে এবং অজান্তে তাদের ইবাদত বিফলে যাচ্ছে 
৩. কাদিয়ানী ধর্মমতের অনুসারী কোনো ব্যক্তি মুসলমানের ইমাম সেজে তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করতে পারে
৪. তারা মুসলমান পরিচয়ে নিজেদের মতবাদ-মতাদর্শ প্রচার করলে তাতে সাধারণ মুসলমান তাদের মুসলমানেরই একটি দল মনে করে তাদের মতবাদ গ্রহণ করে নিজেদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমান হারানো আশংকা রয়েছে
৫. তারা মুসলমান নামে পরিচিত হওয়ার কারণে অনেক মুসলমান তাদের সাথে মুসলমানের মত আচার-আচরণ ও চলাফেরা করেঅথচ তাদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক হওয়া উচিত এমনই, যেমন কোনো অমুসলিমের সাথে হয়ে থাকে
৬. অনেক সাধারণ মুসলমান কাদিয়ানীদের মুসলমান মনে করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করার ফলে আজীবন ব্যভিচারের গুনাহে লিপ্ত থাকে
৭. কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বী গরীবকে যাকাত দিয়ে অনেক মুসলমানের যাকাতের ফরয বিধান বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান 
৮. যে কোনো কাফের তথা অমুসলিমের জন্য হারাম শরীফে প্রবেশ নিষেধঅথচ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের লোকেরা মুসলিম পরিচয় দিয়ে হজ্ব ও চাকরির নামে সৌদি আরবে গিয়ে হারাম শরীফে প্রবেশ করে তার পবিত্রতা নষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছে
অতএব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের জোর দাবী হল:- 
১. বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেও অনতিবিলম্বে কথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানীদের সরকারীভাবে সংখ্যালগু অমুসলিম ঘোষণা করা হোক
২. তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষাসমূহ যেমন: কালিমা, নামায, রোযা, হজ্ব ও মসজিদ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হোক
৩. আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিতব্য তথাকথিত ইজতেমা বন্ধ ঘোষণা করা হোক
তাদের তথাকথিত ইজতেমার আয়োজন ও কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পঞ্চগড় অভিমূখে লংমার্চসহ আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে
আহ্বানে
আল্লামা শাহ আহমদ শফী (হাফিযাহল্লাহ)
আমীর: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯

হেফাজতে ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের নামে অপপ্রচার


হেফাজতে ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের নামে অপপ্রচার

হেফাজতে ইসলাম কক্সবাজার জেলা শাখার নামে একটি কুচক্রিমহল অপপ্রচারে নেমেছে। ওই চক্রটি সংবাদ সম্মেলনের নামে জেলাজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। আজব এ খবরটি পত্রপত্রিকায় ছাপা হলে দলের নেতৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। সংবাদ সম্মেলনটি কক্সবাজার জেলা হেফাজতের নয়।
ক্ষুব্ধমহল বলেন, কথিত ও আজগুবী সংবাদ সম্মেলনটি মাওলানা ইয়াসিন হাবিবের একটি কূটচাল, সাজানো নাটক মাত্র। হেফাজতের নাম দিয়ে কক্সবাজার জেলা হেফাজতের অগোচরে সংগঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলা হেফাজতে ইসলামের কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। দায়িত্বশীলদের সাথে আলোচনা ব্যতিরেখে ব্যক্তিগত স্বার্থে হেফাজতের ব্যানারকে যথেচ্ছা ব্যবহারের মাধ্যমে মাওলানা ইয়াসিন হেফাজতকে কলংকিত করেছেন। হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমীর চট্টগ্রাম দারুল উলুম মঈনুল ইসলামের মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী, বিশ্ব বিখ্যাত আরবী সাহিত্যিক চট্টগ্রাম দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা সোলতান যওক নদভী, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা আব্দুল হালিম বোখারীর সম্মানহানী করেছেন।
কথিত এ সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলা হেফাজত সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট কোন সিনিয়র দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন না। স্বয়ং জেলা সভাপতি কিছুই জানেন না এব্যাপারে। ব্যানারের চেহেরাগুলো দেখলে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে এটি কক্সবাজার জেলা হেফাজতের সম্মেলন ছিল না। যা ছিল ইয়াসিন হাবিবের পাতানো ষড়যন্ত্রের আরো একটি নীল নকশা।
মুলত মাওঃ ইয়াসিন হাবিব লাইট হাইজ মাদ্রাসা নিয়ে অপপ্রচার ও তৎপরতা চালিয়ে মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিনষ্টকরণের চক্রান্তে মেতে উঠেছেন। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
উপরোক্ত বিষয়ে হেফাজত ইসলামের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওঃ আবুল হোছেনের সাথে রবিবার বিকেলে ফোনালাপ হলে তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ ধরণের কোন সংবাদ সম্মেলন হয়নি। তিনি নিজে বিষয়টি শুনে হতবাক হয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের জেলা সহ সভাপতি মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, মুফতি এনামুল হক, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা কাজী এরশাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শামসুল হক নছীম বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তারা কেউ কিছুই জানেন না। ভিত্তিহীন এ সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

প্রজাতন্ত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লিখাটিকে ভাইরাল করুন!


প্রজাতন্ত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পোষ্টটি ভাইরাল করুন!

______

এই মাসে রংপুর বিভাগে (পঞ্চগড়) কাদিয়ানীরা প্রকাশ্যে মহাধুমদামে 'সালানা জলসা' করতে যাচ্ছে। এর আড়ালে তারা তাদের কাদিয়ানের নতুন "নবী"(?) মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর দলে সাধারণ মানুষকে ভিড়ানোর অভিনব পায়তারা করছে! হে উম্মতে মুহাম্মদিয়া! আজও ঘুমিয়ে কেন?
_____
প্রজাতন্ত্রের সরকারের নিকট জিজ্ঞাসাঃ
দুনিয়ার সব মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে এদেশে কেন আজও নিষিদ্ধ হলনা? এর কারণ জানতে চাই আর নয়ত সরকারের তরফ থেকে আমাদের বলতে হবে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরেও মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী'র "নবী" দাবী সঠিক ছিল! (নাউযুবিল্লাহ)!
________
দেশের আপামর তওহিদি জনতার উদ্দেশ্যে বলছি, কাদিয়ানী সম্প্রদায় দুনিয়ার সব চেয়ে জঘন্য ও ধোকাবাজ একটি কাফের সম্প্রদায়। আমি গত দুই বছর তাদের কাদিয়ানের কথিত নবী মির্যা গোলাম আহমদের ৮৩ টি বইয়ের সমষ্টি ২৩ খন্ডে প্রকাশিত "রূহানী খাযায়েন" পড়ছি। অন্তত আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, ওরা চরম ধোকা আর মিথ্যার স্বর্গে বিচরণ করছে।
______
এবার মির্যা কাদিয়ানী আর তার পুত্র মির্যা বশির উদ্দিনের বই থেকে শুধু দুটি ফতুয়াবাজি জেনে নিন!
# মির্যা কাদিয়ানীর পুত্র বশির উদ্দিন সাহেব লিখেছেনঃ "প্রত্যেক মুসলমান যিনি হযরত মাসীহে মওঊদ (মির্যা কাদিয়ানী)'র বয়াতে শামিল হয়নি, সে যদিও হযরত মাসীহ মওঊদের নামও শুনেনি, এমন ব্যক্তিও কাফের এবং ইসলাম থেকে বাহিরে।" (আয়নায়ে সাদাক্বাত, পৃষ্ঠা ৩৫; মির্যাপুত্র মির্যা বশির উদ্দিন মাহমুদ)।
# মির্যা কাদিয়ানী লিখেছেনঃ "(আমার) এই কিতাবগুলো এমন, যা সব মুসলমানই মুহাব্বতের দৃষ্টিতে দেখে আর তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় এবং আমাকে গ্রহণ করে ও সত্যায়ন করে শুধুমাত্র যুররিয়্যাতুল বাগাইয়া তথা বেশ্যার সন্তানেরা ছাড়া। আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। ফলে তারা (আমাকে) কবুল করবেনা" (দেখুন, রূহানী খাযায়েন খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ৫৪৭-৪৮)। প্রয়োজনে তার বইয়ের স্কিনশট দেয়া যাবে।
____
শুনে অবাক হবেন যে, ওদের মির্যার বই থেকেই প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ওরা উম্মতে মুহাম্মদিয়ার ৭৩ ফেরকার বাহিরে স্বতন্ত্র একটি দল। প্রমাণের জন্য 'রূহানী খাযায়েন' খণ্ড নং ১৭ পৃষ্ঠা নং ২২৬ এবং ৪৫৬ দেখা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ কাদিয়ানীরা এসব চিন্তাও করতে পারেনা!
____
সে যাইহোক, এখনই সময় ওদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের অমূল্য দৌলত "ঈমান" রক্ষার্থে তাদের সমুদয় কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সরকারের নিকট দাবী জানানো। সরকার যেন বুঝতে সক্ষম হয় যে, এটি মুসলমানদের অন্যতম একটি ঈমানী দাবী! একে রাজনৈতিক ইস্যু'র সাথে কোনোভাবেই গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবেনা!
আর তাই সর্বপ্রথম সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ওরা কাফেরের চেয়েও ভয়ংকর কাফের কিজন্য? এদের বই থেকেই এদের চেপে রাখা জঘন্য কুফুরি আকিদাগুলো আর মির্যা কাদিয়ানীর লাম্পট্য চরিত্রের অশুভ স্বরূপ খুলে খুলে দেখিয়ে দিতে হবে। তারপরই আমরা এদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তিক দাবি জানালে তা দ্রুত ফলপ্রসূ হবে এবং সর্বমহলে তা ব্যাপক সাড়া পাবে, ইনশাআল্লাহ।
____
সাবধান! কাদিয়ানীরা আমাদের ফেকহি মতানৈক্যপূর্ণ সৃষ্ট হানাফি মালেকি মাযহাবের সাথে নিজেদের কাদিয়ানীধর্মকে তুলনা করার মত ধৃষ্টতাপূর্ণ ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে থাকে। হয়ত এরূপ জালিয়াতি আর নিষ্ঠুর ছলনা করে তারা সরকারকেও বিভ্রান্ত করতে চাইবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনসহ সময়োপযোগী সকল আন্দোলনে কোমর বেধে আজই নামতে হবে।
আপনারা সবাই এই লেখাটি আজই কপি করে পোস্ট করুন।
_______
মুরতাদ কাদিয়ানিদের নানা রকম বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের খন্ডনে ১০০+ ডকুমেন্টারি লেখার লিংকঃ- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2094408950874500&substory_index=0&id=1965990427049687
_________
# ছবিঃ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা মির্যা মাসরূর আহমেদ (২০০৩ সালে ক্যামেরায় ধারণকৃত)।

খতমে নবুওয়াত আন্দোলন বাংলাদেশ: #কেউ জাগবে কি? আবারও দেখা হবে রাজপথে

খতমে নবুওয়াত আন্দোলন বাংলাদেশ: #কেউ জাগবে কি? আবারও দেখা হবে রাজপথে: #কেউ জাগবে কি?  আবারও দেখা হবে রাজপথে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম হাদিস বিশারদ হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্ যালয়ের নায়েবে মুহতামিম আল্লাম...

#কেউ জাগবে কি? আবারও দেখা হবে রাজপথে

#কেউ জাগবে কি? 

আবারও দেখা হবে রাজপথে


দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম হাদিস বিশারদ হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের নায়েবে মুহতামিম আল্লামা হাফেয জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. এর অসুস্থ্যতার খবর শুনে ছুটে এসেছিলেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম “খতমে নবুওয়াত আন্দোলন” এর আমীর পীরে কামেল আল্লামা মুফতী নূর হোসাইন নূরানি দা.বা. এসময় তিনি বাবুনগরী দা.বা. মহুদয়ের কাছে বর্তমান কাদিয়ানী বিরোধী চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দু‘আনেন। এ সময় আমীরে খতমে নবুওয়াত নুরানী হুজুর বাবু নগরী দা.বা.কে একটি ভয়ংকর সংবাদ শোনালেন।
পঞ্চগড় জেলায় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে "বার্ষিক ইজতেমা"নামে কাদীয়ানীদের বিশাল জলসা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি কাদীয়ানিরা সেখানে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও যারা সেই এজতেমায় যারা যাবে তাদের সকলকে একটি করে বিদেশী কম্বল দেবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থাও থাকছে।প্রায় কোটি টাকা তারা এ উপলক্ষে বাজেট রেখেছে। স্থানীয় ওলামা ও দীনদার শ্রেণী প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক শয়তানী শক্তির দাপটে কিছু করতে পারছেন না।
বাবুনগরী হুজুর এ কথা শুনে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবুনগী হুজুর ও আমীরে খতমে নবুওয়াত গণমাধ্যমে এক যৌথ বিবৃতি পাঠান। কাদিয়ানীদের জলসার তারিখে একই জায়গায় কাদীয়ানী বিরোধী মহাসমাবেশের ডাক দিতে যাচ্ছেন। দুই দীনের সিপাহসালার শপথ নেন
 জীবনের সর্বশেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত কাফের কাদিয়ানীদের বিরোধ্যে লড়াই, সংগ্রাম চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব হাফেয মাওলানা মুফতি ওসমান আল-হুমাম উখিয়াভী সিনিয়র মুহাদ্দিস জামেয়া ইসলামিয়া বাইতুল ক...