শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০১৭

দারুল উলূম দেওবন্দে যারা পড়তে যাচ্ছেন তাদের করণী।


দারুল উলূম দেওবন্দে যারা পড়তে যাচ্ছেন তাদের করণী। 

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------

উপমহাদেশের সর্বোচ্চ দীনি বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত, কওমি মাদরাসার সূতিকাগার ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের পড়ার স্বপ্ন প্রতিটি কওমি পড়ুয়া তরুণের। কিন্তু আজকাল ভিসা বা এ সংক্রন্ত জটিলতায় অনেকেই তাদের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হন। আবার অনেকে পথ ঘাট পেলেও দেওবন্দে পৌঁছতে নানা রকম ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। এখানে যারা দেওবন্দে পড়তে যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু করণীয় তুলে ধরা হলো। কাজগুলো এভাবে করলে সহজ হবে।
যেভাবে যেতে হবে
১. ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসা নাও মিলতে পারে। সে জন্য ১ বছর মেয়াদি একটা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে নিন।
এক্ষেত্রে মিথ্যা, ধোকা বা কারচুপির আশ্রয় নেয়া ঠিক হবে না। আহলে ইলম ও ওয়ারিছীনে নবীর জন্য এরূপ করা অন্যায় হবে। মনে রাখবেন, দারুল উলূম দেওবন্দে পড়া বা ভর্তি হওয়া শরীয়তের ফেকহী দৃষ্টিতে মুস্তাহাবও নয়। আবার এমনও নয় যে, সেখানের জ্ঞান এ দেশে হাছিল করা যায় না। সেখানে যাওয়া ও ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়া মানে হলো ব্যক্তির একটি আবেগ ও তামান্না পূরণ হওয়া। অতএব এর জন্য মিথ্যা, ধোকা বা কারচুপির আশ্রয় নেওয়া আদৌ জায়েয হবে না।
২. আসার ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলে প্লেনে আসাই ভালো। এক্ষেত্রে স্মরণ করে ভিসায় ‘বাই-এয়া’ অপশন দিতে ভুলবেন না। আর ট্রেনে আসলে কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস দিয়ে দিল্লী পর্যন্ত আসতে পারেন। পরে দিল্লী থেকে অন্য ট্রেনে দেওবন্দ। অথবা কলকাতা থেকে অন্য ট্রেন আছে সাহারানপুরের, যেমন আমৃতসর এক্সপ্রেস৷
স্মরণ রাখবেন! সাহারানপুর থেকে দেওবন্দ বাস আছে৷ আবার দিল্লী মারকাজ মসজিদ টু সরাসরি দেওবন্দ বাস আছে৷
৩. আসার ক্ষেত্রে কলকাতায় এসে ট্রেনের টিকিট কাটতে UP যাবো না বলাই ভাল৷ পরিস্কার বলবেন উত্তর প্রদেশ “সাহারানপুর” যাবো।
৪. আসার সময় যতটুকু সম্ভব সামান কম আনুন। যাতে ইমেগ্রেশনে ঝামেলা পোহাতে না হয়।
৫. আসার সময় স্মরণ করে কলকাতায় এসে একটা সিম কিনে নিন। অন্যথায় বিপদাপদে সাথী ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না আর দেওবন্দ আসার আগ পর্যন্ত সিমও কিনা সম্ভব হবে না।
কখন আসবেন?
সম্ভব হলে শা’বানের ভেতরেই আসা ভালো। যেহেতু আসার পর বাংলাদেশী ছাত্রদের কিছুটা ভেতরগত ঝামেলা পোহাতে হয়। তাছাড়া থাকার (পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়) জন্য সিটের সুবিধারও একটা ব্যাপার আছে।
ভর্তি পরিক্ষার্থীর সংখ্যা
পাঁচহাজারেরও অনেক বেশি। পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর তা বাড়ে।
নতুন ছাত্র কতজন
নতুন ১০০০ জন ভর্তি নেয়া হয়। (এর মধ্যেও আবার দেশ ও স্টেইটভিত্তিক কোটা এবং তাকাবুল তো আছেই)
পরীক্ষা
কি কি কিতাব পরীক্ষা নেয়া হয়?
১. মিশকাত ২. হেদায়া ৩-৪ ৩. শরহু নুখবাতিল ফিকার ৪. শরহুল আকাঈদ ৫. সিরাজি। (সব লিখিত)
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে
১. উত্তরপত্র ফুল আরাবিতে দিন।
২. উর্দূ এবং আরাবি সুন্দর খতে লিখুন।
আর বেশি করে শেষ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ পড়ে মাওলার দরবারে অশ্রু বিসর্জন দিন। স্মরণ রাখবেন! যোগ্যতা বলে কখনো কিচ্ছু হয় না যদি মাওলার রেজা না থাকে। আর দেওবন্দ’র ইতিহাস তো জানা আছেই।
পরীক্ষা শুরু
১৩ শাওয়াল। প্রতি পরীক্ষার আগে একদিন খালি আছে।
দাখেলা না পেলে
এই নিয়ত এখনি বাদ দিন। কেনো হবে না? মাওলা তো আছেন ই। আর একান্তই যদি দাখেলা না পান তাহলে ভিন্ন ব্যবস্থা আপনি নিজেই সেখানে করে নিতে পারবেন।
ছাত্রের জন্য দেওবন্দ কর্তৃক সুবিধাদি!
১. ভর্তি, কিতাব, থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি।
২. মাসে ২০০ রুপি বৃত্তি।
৩. শীতে কম্বল। পুরাতন ছাত্রদের জন্য আদিকালের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লেমটন’র জ্বালানি তৈল এবং ঝাড়ু’র টাকা।
৪. একটা সিট।একটা আলমারি।

আন্তর্জাতিক ওয়েব সাইট মির্যা কাদিয়ানী সম্পর্কে কী বলে দেখুন!


আন্তর্জাতিক ওয়েব সাইট মির্যা কাদিয়ানী সম্পর্কে কী বলে দেখুন!

-----
মির্যা গোলাম আহমেদ (উর্দু: مرزا غلام احمد, ਮਿਰਜ਼ਾ ਗੁਲਾਮ ਅਹਮਦ; ফেব্রুয়ারি ১৩, ১৮৩৫ - মে ২৬, ১৯০৮) একজন বিতর্কিত ভারতীয় ধর্মীয় নেতা, এবং আহ্‌মদিয়া মুসলিম জামাত নামক এক ধর্মের প্রবর্তক। তাঁর দাবী মতে তিনি ১৪ শতাব্দীর মুজাদ্দেদ (আধ্যাত্মিক সংস্কারক), প্রতিশ্রুত মসীহ, মাহদী এবং খলীফা। তিনি একজন উম্মতি নবী হিসেবেও নিজেকে দাবী করেন এবং তার সপক্ষে কুরআনের বহু আয়াত এবং মোজেজা পেশ করেন।
------
উইকিপিডিয়া থেকে দেখু...
আরো দেখুন
) একজন বিতর্কিত ভারতীয় ধর্মীয় নেতা, এবং আহ্‌মদিয়া মুসলিম জামাত নামক এক ধর্মের প্রবর্তক। তাঁর দাবী মতে তিনি ১৪ শতাব্দীর মুজাদ্দেদ (আধ্যাত্মিক সংস্কারক), প্রতিশ্রুত মসীহ, মাহদী এবং খলীফা। তিনি একজন উম্মতি নবী হিসেবেও নিজেকে দাবী করেন এবং তার সপক্ষে কুরআনের বহু আয়াত এবং মোজেজা পেশ করেন।
bn.wikipedia.org

সিরিয়ার এই তিনটি ঘটনা যুগ যুগ ধরে মুসলিম জাতিকে প্রেরণা দিয়ে যাবে..


সিরিয়ার এই তিনটি ঘটনা যুগ যুগ
ধরে মুসলিম জাতিকে প্রেরণা দিয়ে যাবে...

. ১. একটি শিশু তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ মুহুর্তে বলেছিলো,
"আমি আল্লাহকে সবকিছু বলে দিবো!"
.
২. বিমান হামলায় বিধ্বস্ত বাড়ির ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে একজন তরুণী বলেছিলো, "প্লিজ আংকেল! আল্লাহর দোহাই, আমার ছবি তুলবেন না; আমি এই মুহুর্তে হিজাব পরিহিতা নই!"
.
৩. একটি শিশু ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেছিলো, "ও আল্লাহ, আমি মরতে চাই! আমাদের কোন রুটি নেই কেন? আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাও যাতে আমরা রুটি খেতে পারি!"...
:
সুতরাং আমাদের মধ্যে যতো কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন সর্বদা মহান আল্লাহ্ কে সব সময় স্বরণ করবো,,,হে আল্লাহ্ আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ্ র পথে চলার তৌফিক দান করুন...(আমিন)


কাদিয়ানিদের আরেকটি মস্ত বিভ্রান্তির খন্ডন ও দাজ্জালকে ঈসা মাসীহ (আ) কর্তৃক হত্যা করা প্রসঙ্গ :-


কাদিয়ানিদের আরেকটি মস্ত বিভ্রান্তির খন্ডন ও দাজ্জালকে ঈসা মাসীহ (আ) কর্তৃক হত্যা করা প্রসঙ্গ :-

=======================================================================
নবুওতের দাবিদার মির্যা কাদিয়ানীর অনুসারিদের আহমদিয়া /কাদিয়ানী বলা হয়। তাদের ভুল ও ইসলাম বিরুধি আকিদার ফিরিস্ত অনেক দীর্ঘ। ওরা বুঝতে চায় না, তবে বুঝাতে চায় খুব। ওদের যেন বোধ উদয় হয়, যেন মির্যা কাদিয়ানির ধোঁকাবাজি উপলব্ধ হয় এ দোয়া করছি।
ওদের বুঝানো হয়েছে যে, দাজ্জাল বলতে খ্রিষ্টান মিশনারি উদ্দেশ্য। কিন্তু ওদের যখন প্রশ্ন করা হল যে, বর্তমানে কি খ্রিষ্টান মিশনারি নেই? বলল, জ্বী আছে। তখন আবার জিজ্ঞেস করা হল, মির্যা সাহেব যদি আপনাদের বিশ্বাস অনুসারে প্রতিশ্রুত মাসীহ হন তাহলে "দাজ্জাল" নামক খ্রিষ্টান মিশনারিদের খতম না করে তার আগেই তিনি মারা গেলেন কিজন্য?
অথচ মাসীহ মাওঊদ দুনিয়াতে আগমন করে দাজ্জালকে খতম করবেন, তারপর মাসীহ (আ) ইন্তেকাল করবেন; এমন নয় কি?
তখন আহমদি বা কাদিয়ানিদের মুখরক্ষা করার মত আর কোনো সঠিক উত্তর খুঁজে পেলনা।
শেষরক্ষা হিসেবে জনৈক কাদিয়ানী পণ্ডিত উক্ত প্রশ্নের প্রতিউত্তরে আমাকে বললেন, দাজ্জালকে হত্যা করা হবে এমন কথা কোথায় আছে? আমি বললাম, তার মানে আপনি কী বুঝাতে চাইছেন?
তখন তিনি অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি গল্প শুনালেন। গল্পটি হল, দাজ্জাল তথা খ্রিষ্টান মিশনারি কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। ঈসা মাসীহ তাকে হত্যা নয়, বরং বধ করার জন্য আসবেন। মির্যা সাহেব ১৮৯১ সালে পাকিস্তানের লুধিয়ানা শহরে দাজ্জালকে বধ করেছেন। এ ধারা কেয়ামত পর্যন্ত চলবে।
আমি বললাম, "বধ" মানে কী? তখন তিনি বুঝালেন, এর মানে হল, তাদের ত্রিত্ববাদের খন্ডন করে পরাজিত করা।
তখন আমি বললাম, আপনার এ গল্পের সাথে রাসূলে পাক (সা)-এর পবিত্র ভবিষৎবাণীর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ভবিষৎবাণীতে সুস্পষ্টভাবে রয়েছে, "লূদ" নামক গেইটের কাছে ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ) দাজ্জালকে পেয়ে যাবেন। আর তখনি তিনি দাজ্জালকে সেখানে কতল করবেন। কতল অর্থ হত্যা করা। এটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনা।
নিচে হাদিসের খন্ডাংশ দেখুন -
فیطلبہ حتی یدرکہ بباب لد فیقتلہ‘‘ (صحیح مسلم ج۲ ص۴۰۱، باب ذکر الدجال)
------
কাদিয়ানিদের প্রকাশিত "রূহানী খাযায়েন" পুস্তক থেকে হাদিসটির ঊর্দূ অনুবাদ পড়ুন :-
---
پھر حضرت ابن مریم دجال کی تلاش میں لگیں گے اور لد کے دروازے پر جو بیت المقدس کے دیہات میں سے ایک گاؤں ہے۔ اس کو جاپکڑیں گے اور اس کو قتل کر ڈالیں گے۔‘‘ (ازالہ اوہام ص۲۱۹،۲۲۰، خزائن ج۳ ص۲۰۹)
-----
বাংলা অনুবাদ :-.... অতপর হযরত ইবনে মরিয়ম তিনি দাজ্জালকে খোঁজ করতে থাকবেন। "লূদ" নামক দরওয়াজায় যেটি বায়তুল মুকাদ্দাসের গ্রাম গুলোর একটি গ্রামে হবে, তাকে পাকড়াও করবেন এবং তাকে কতল (হত্যা) করবেন।" (সহীহ মুসলিম শরীফ ২/৪০১; দাজ্জালের আলোচনা অধ্যায়)
----
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের লুধিয়ান শহর থেকে ফিলিস্তিনে "লূদ" নামক স্থানটির দূরত্ব ৩২৬৩ কিলোমিটার। গুগল থেকে সার্জ দিয়ে দেখুন।
সুতরাং কাদিয়ানিদের সব আকিদা এবং ব্যাখ্যা বাস্তবতা বিবর্জিত ও মিথ্যা। হাদিসে দাজ্জালকে "হত্যা" করা সম্পর্কে "কতল" শব্দটিও সুস্পষ্টভাবে এসেছে। এতেই প্রমাণিত হয়, কাদিয়ানিরা মস্তবড় মূর্খ এবং সত্য গোপনকারী।
সবাই এ ভয়ংকর দাজ্জালি জামাত থেকে সতর্ক থাকুন।

প্রতিশ্রুত ঈসা মাসীহ (আ) সম্পর্কে মুসলিম দুনিয়ার বিশ্বাস সম্পর্কে উইকিপিডিয়া'র মত ইন্টারন্যাশনাল ওয়েব সাইটে অত্যন্ত চমৎকার ভাবে উল্লেখ হয়েছে।


প্রতিশ্রুত ঈসা মাসীহ (আ) সম্পর্কে মুসলিম দুনিয়ার বিশ্বাস সম্পর্কে উইকিপিডিয়া'র মত ইন্টারন্যাশনাল ওয়েব সাইটে অত্যন্ত চমৎকার ভাবে উল্লেখ হয়েছে।

========================================================================

 (লিংক নিচে দেখুন)। এবার কাদিয়ানিদের উচিৎ উইকিপিডিয়ার এডমিনদের 'কাটমোল্লা' / ধর্মান্ধ/ জঙ্গি ইত্যাদি ব্যঙ্গার্থ শব্দে গালি দেয়া।

---------
উইকিপিডিয়া'র তথ্য মতে :
----
খ্রিস্টধর্মের মত ইসলাম ধর্মেও তিনি সম্মানিত একজন নবী; তবে ইসলাম ধর্মে তার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে স্বীকার করা হয় না| বলা হয় যে, ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য যখন বাহক তাকে নিতে...
আরো দেখুন
ঈসা ইবনে মারিয়াম ( আরবি: عيسى, অক্ষরীকরণ: ʿĪsā ), যিনি নিউ টেস্টামেন্টে যিশু নামে পরিচিত, ইসলাম ধর্মে একজন নবী ও রাসূল এবং মসীহ হিসেবে স্বীকৃত।[১]
bn.wikipedia.org

কওমি মাদরাসায় শুরু হচ্ছে ভর্তিযুদ্ধ, যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন

কওমি মাদরাসায় শুরু হচ্ছে ভর্তিযুদ্ধ, যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন
 ============================================================================ 


কওমি মাদরাসাদেশের অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা মাধ্যমকওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন পার্থিব সচ্চলতা ও পরকালীন মুক্তির পথ দেখায়ঠিক তেমনি আদর্শিক চেতনা ও আত্মিক গুনাবলির উন্নতি ঘটায়সে কারণেই এখন কওমি মাদরাসাশিক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা দেখা দিয়েছে ব্যাপকএ ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধী করছে মানব সভ্যতাফলে অনেকেই চাচ্ছেন কেবল পার্থিব সৌন্দর্য্যরে মোড়কে মোড়ানো শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে ত্রি ধারা তথা পার্থিব, আত্মিক ও পরলৌকিক মুক্তির শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করতেকিন্তু অনেক অভিভাবক বা ভর্তিচ্ছু ছাত্র/ছাত্রীরা জানে না কওমি মাদরাসায় ভর্তির অনেক তথ্যই
সকল কওমি মাদরাসায় শিক্ষাবর্ষ আরবী মাস অনুযায়ী নির্ধারিত হয়সে হিসেবে প্রতি আরবী বছরের শাওয়াল মাস থেকে শাবান মাস পর্যন্ত কওমি মাদরাসার একটি শিক্ষাবর্ষ ধরা হয়এখন চলছে কওমি মাদরাসার শিক্ষা বর্ষের প্রথম মাস শাওয়াল মাসকওমি মাদরাসায় চলছে ভর্তি কার্যক্রমের প্রাক প্রস্তুতীপ্রায় সব মাদরাসাতেয় ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয় ৮ শাওয়াল থেকেভর্তিচ্ছু সকল ছাত্র/ছাত্রীরাও প্রস্তুত তার কাঙ্ক্ষিত মাদরাসায় নির্ধারিত শ্রেণি /বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্যতবে সে ক্ষেত্রে অনেক ভর্তিচ্ছুরা নানান কারণে তিক্ত বিড়ম্বনার শিকার হনআমরা এখানে নবাগত, অনুজ ও অগ্রজ শিক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্তভাবে কিছু দিক নির্দেশনা উল্লেখ করছি
টিপস-১
ভর্তির ক্ষেত্রে প্রথমত আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি কোন মাদরাসায় ভর্তি হবেন? কওমি মাদরাসা শিক্ষার মানদণ্ড ও লক্ষ্য এক হলেও শিক্ষাদানের পদ্ধতি ও তদারকির ভিন্নতার কারণে কওমি মাদরাসাসমূহের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও সুনামের উল্লেখযোগ্যতার বিচারে খানিকটা তফাত রয়েছে
আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রবাদ আছে- ধারেও কাটে, ভারেও কাটেসুতরাং মাদরাসা নির্বাচনের আগে মাদরাসার ইলমি ও আমলী রক্ষনাবেক্ষনের যথেষ্টতা, মাদরাসার রেজাল্ট ও সুনামের পাল্লা, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিকতা ও মাদরাসার ভৌগলিক অবস্থান নির্ধারণ করা একজন ভালো মানের মুত্তাকি আলেম হওয়ার জন্য খুবই প্রয়োজনআপনার ভর্তির জন্য সম্ভাব্য কাঙ্খিত মাদরাসা নির্ধারণের আগে উপরোক্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে যাঁচাই করুন
[এখানে উল্লেখ্য, বর্তমান যুগে হাফেজে কুরআন ব্যাতিরেকে কিতাব বিভাগে (গায়রে হাফেজদের) অধ্যয়ন করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত কেননা হাফেজে কুরআন হওয়া ব্যাতিত আলেম হলে যথেষ্ট অপূর্ণতার কারণে কর্মক্ষেত্রে অনেকাংশে দুর্বলতা ও জটিলতা দেখা দেয়ফলে কওমি মাদরাসায় পড়ার মূল উদ্দেশ্যও যথাযথতা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে নাতবে হাফেজ হওয়ার মত ধী ও স্মরণশক্তির দুর্বলতা থাকলে সরাসরি কিতাব বিভাগে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছেতবে এ ক্ষেত্রে গায়রে হাফেজদের কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পূর্র্বে পুরো কুরআন মাজিদের নাজেরা সুন্দর ও তারতীলের সাথে সহিহ শুদ্ধভাবে অধ্যয়নের পূর্ণ যোগ্যতা থাকতে হবে]
টিপস-২
আপনার ভর্তির জন্য কাঙ্কিত মাদরাসায় নির্ধারিত ক্লাশ/বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য কোন কোন কিতাব/বিষয়ের উপর পরীক্ষা হবে তা আগেই জানার চেষ্টা করুনএবং ভর্তি হওয়ার জন্য নির্ধারিত পাশ নাম্বার কত তাও জেনে নিনএবার ভর্তি পরীক্ষার আগে আপনি পরীক্ষার নির্ধারিত কিতাব/বিষয় অধ্যয়ন করুনরিভাইস (মুতালায়া) দিনযেন পরীক্ষকের নিকট আপনার পূর্ণ দক্ষতা প্রকাশ পায়
টিপস-৩
ঢাকসহ দেশের প্রায় সকল নামিদামি মাদরাসায় ভর্তি ফরমের সাথে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (কোথাও কোথাও ৪ কপি) বাধ্যতামূলকভর্তি পরীক্ষায় নিরিক্ষনের জন্য আপনাকে অবশ্যই শারীরিক পরিপাটি বজায় রাখা আবশ্যকচুল ছোট (সামনে পিছনে সমান) করা, দাড়ি মুন্ডন, কাটা/ছাটা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা, হাত পায়ের নখ ছোট রাখা, টুপি-পোশাক পরিচ্ছেদ স্টাইলিশ না হওয়া বাঞ্চনীয়এগুলো আগেই ঠিক ঠাক করে রাখুন
টিপস-৪
কওমি মাদরাসাগুলোতে ভর্তির সময় এককালীন ভর্তি ফি, উন্নয়ন ফি ইত্যাদি দিতে হয়তাই প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য কওমি মাদরাসাগুলোতে ভর্তির সময় সবগুলো আর্থিক ফান্ড মিলে আপনাকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তিকালীন জমা দিতে হতে পারেতাই নিজ খরচ ছাড়াও ভর্তির জন্য উল্লেখ্য পরিমাণ টাকা সঙ্গে নিয়ে আসুন
টিপস-৫
আপনার ভর্তির জন্য কাক্সিক্ষত মাদরাসার ভর্তির তারিখ জেনে যথা সময়েই মাদরাসায় যেয়ে ভর্তি ফরম তুলে ভর্তির প্রয়োজনীয় কার্যাদি পেরেশানমুক্তভাবে সেরে ফেলুনএ ক্ষেত্রে পেরেশানী বা তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেইএতে আপনার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া সমস্যাও হতে পারেকেননা পেরেশান বা চিন্তা থেকেই মানসিক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়
[উল্লেখ্য, অনেক মাদরাসায় ভর্তির সময় ভর্তিচ্ছুর লিগ্যাল অভিভাবকের প্রয়োজন হয়, আবার কোথাও কোথাও এ বছর থেকে ভর্তির সময় লিগ্যাল অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুর ভর্তি ফরমের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রের আবশ্যিকতা থাকতে পারেএ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন
টিপস-৬
ভর্তি পরীক্ষায় দুটি ধারায় নাম্বারের স্তর করা হয়১. ভর্তির উপযোগী হওয়ার জন্য নির্ধারিত নাম্বার২. মাদরাসা কর্তৃক বিনা মূল্যে খানা প্রাপ্তীর জন্য নির্ধারিত নাম্বার
অনেক মাদরাসায় ভর্তির জন্য ভর্তি উপযোগী নাম্বার পেলেই ভর্তি হওয়া যায় কিন্তু অনেক নামিদামি মাদরাসা আছে, যেখানে ভর্তির উপযোগী নাম্বার পেলেও অপেক্ষা করতে হয় ভর্তি কার্যক্রমের শেষ পর্যন্তভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে ভর্তি উপযোগীদের মাঝে কোটা অনুযায়ী শতকরা বেশি নাম্বার প্রাপ্তদের ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়সুতরাং এমন নীতির মাদরাসাগুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনি পরীক্ষা দেওয়া ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়ার চেষ্টা করুন
উল্লেখ্য, মাদরাসা কর্তৃক বিনামূল্যে প্রদত্ব খানা শুধুমাত্র অতিম ও ভরণপোষণে অক্ষমদের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা জায়েযসুতরাং আপনার পরিবার সচ্ছল হলে কোনোভাবেই খানা প্রাপ্তীর নাম্বার পেলেও উক্ত বিনামূল্যের খানা গ্রহণ করা উচিত নয়এতে যেমনিভাবে নাজায়েজ চর্চা হবে ঠিক তেমনি রুহানী ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনার কথাও বুযুর্গদের লিখনিতে উল্লেখ আছেসুতরাং এ ব্যপারে লোভে না পড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন
টিপস-৭
অনেক শিক্ষার্থীই এক মাদরাসায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেনএর মধ্যে অন্য কোথায় ভর্তি পরীক্ষা দেন নাএটা ঠিক নয়কারণ অধিকাংশ মাদরাসাতেই ৮ থেকে ১০/১২ শাওয়ালের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়এক্ষেত্রে একটাতে উত্তীর্ণ না হলে পরে আর অন্যটাতে যাওয়া সম্ভব হয় নাসে কারণে এই দুইদিন পছন্দের সব মাদরাসাতেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে এবং একটাতে পরীক্ষা দিয়ে বসে থাকা যাবে নাএকদিনে দুই তিনটা মাদরাসায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে
টিপস-৮
ভর্তির পর আবাসিক ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্য ১টি ছোট ট্রাঙ্ক, বিছানা+মশারি, প্রয়োজনীয় পাঞ্জাবী পাজামা, দুটি লুঙ্গি, গামছা, ব্রাশ+পেষ্ট, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি সঙ্গে আনতে হবে
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে উল্লেখযোগ্য মাদরাসার কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য কোন জামাত/শ্রেণিতে কি কি কিতাবের পরীক্ষা হয় তার বিবরণ
(তবে, নিম্ন তালিকা ছাড়াও কোনো কোনো মাদরাসায় মৌখিক ও লিখিত কিতাব/বিষয়ের পার্থক্য/অতিরিক্ত বিষয় সংযোজন থাকতে পারে)
তাখাসসুস ফিল ফিক্হ (ইফতা)
তিরমিজি, বুখারি ১ম, হেদায়া/নূরুল আনোয়ারতবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত পরীক্ষা হয়
তাকমিল ফিল হাদিস
মেশকাত, হেদায়া, তাফসিরে বাইজাবি
মেশকাত
জালালাইন, হেদায়া
জালালাইন
শরহে বেকায়া, নূরুল আনওয়ার, মাকামাতে হারিরি
শরহে বেকায়া
কাফিয়া/শরহে জামি, কুদুরি, উসুলুস শাসী
কাফিয়া/শরহে জামি
হেদায়াতুন নাহু, নূরুল ইজাহ, তাইসিরুল মানতেক
হেদায়াতুন নাহু
নাহবেমির, শরহেমিয়াতে আমিল, ইলমুস সরফ/পাঞ্জেগাঞ্জ, মালাবুদ্ধা মিনহু
নাহবেমির
মিযান মুনশায়েব, ইলমুস সরফ, এসো আরবি শিখি
মিযান
তাইসিরুল মুবতাদি, তালিমুল ইসলাম অথবা উর্দু দুসরি
তাইসির
উর্দু কায়দা, কুরআন শরীফ
শীর্ষস্থানীয় মাদরাসাগুলোর ভর্তির তারিখ ও ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন আসছে  

ঈদের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন সুন্দর সমাজ গড়ে তুলুন

ঈদের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন সুন্দর সমাজ গড়ে তুলুন

 আল্লামা মুফতি নুর হুসাইন নুরানী দা.বা.। আমীর খতমে নবু্ওয়াত আন্দোলন বাংলাদেশ।
খতমে নবুওয়াত আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর  বলেছেন, ঈদ হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিনএই উৎসব অন্য কোন উৎসবের সাথে তুলনা হয় না
তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! ৩৬৫ দিনের মধ্যে পাচ দিন হচ্ছে আমাদের ঈদআর ঈদ এমন এক পরিচ্ছন্ন আনন্দ-সৌকর্যমণ্ডিত যা মানবতার বিজয়বারতা ঘোষণার পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের পথ নির্দেশ করেএই ঈদে আমরা বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার শিক্ষা পাইফিতরা প্রদান, জাকাত আদায় ও ঈদের নামাজের ভেতর দিয়ে আমরা এমন কিছু কাজ ও আচরণ প্রদর্শন করি যার প্রভাব পড়ে সারা জীবনেতিনি ঈদের পরিপূর্ণ শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার আহবান জানান
গতকাল ২৮ জুন বুধবার বিকাল ৩টায় ঢাকা মাহানগর খতমে নবুওয়াত আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খতমে নবু্ওয়াত আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর  আল্লামা মুফতি নুর হুসাইন নুরানী দা.বা.।
  বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেনশাখা সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসের  সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  খতমে নবুওয়াত আন্দোলন বাংলামের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আলীম নেযামী দা.বা.,

 পল্টনস্থ একটি অভিজাত রোস্তোরার সভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ,সহসভাপতি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আব্দুল মালিক, সহ সেক্রেটারী মাওলানা জাবির আহমেদ,, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা শেইখ রুম্মান আহমেদ, দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা দিলোয়ার  হোসাইন প্রমুখ

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ বনায়নের গুরুত্ব হাফেয মাওলানা মুফতি ওসমান আল-হুমাম উখিয়াভী সিনিয়র মুহাদ্দিস জামেয়া ইসলামিয়া বাইতুল ক...